দেশের রাজনীতিতে এখন বইছে নতুন হাওয়া। শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা, আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্পন্ন হলো মন্ত্রিসভার শপথ। এই মন্ত্রিসভার অন্যতম চমক এবং অভিজ্ঞ মুখ হলেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাকে দেওয়া হয়েছে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
পুরোনো দপ্তরে নতুন মিশন
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জন্য এই মন্ত্রণালয়টি একেবারেই নতুন নয়। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও তিনি একই বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অর্থাৎ, প্রায় ২০ বছর পর তিনি আবারও সেই চেনা প্রাঙ্গণে ফিরলেন, তবে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার আগের অভিজ্ঞতা এবার কতটা কাজে লাগে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক জীবন ও বর্ণাঢ্য পথচলা
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ দীর্ঘ। তিনি মূলত ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালেও একই আসন থেকে জয়লাভ করেন। তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচিত।
আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত বিজয়
তার রাজনৈতিক জীবনে চড়াই-উতরাই কম ছিল না। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দুদকের করা এক মামলায় তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি দমে যাননি। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে ২০১১ সালে হাইকোর্ট থেকে খালাস পান এবং ২০১৪ সালে আপিল বিভাগেও সেই রায় বহাল থাকে। সব বাধা পেরিয়ে তিনি আজ আবারও দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিজের জায়গা করে নিলেন।
সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রিয় এই নেতা এবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা দেশের মানুষকে কতটা স্বস্তি দিতে পারেন, তা নিয়ে এখন চারদিকে আলোচনা চলছে। অভিজ্ঞতার ঝুলি যেহেতু বড়, প্রত্যাশাটাও তাই একটু বেশিই।

Leave a Reply